26th-blog

শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

শিশুর যত্ন নিয়ে সকল অভিভাবকরাই চিন্তিত থাকেন। তাদের চিন্তা দূর করার জন্য সহজেই শিশুর যত্ন নেয়া সম্পর্কে কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করা হল।

১। শিশুর গোসল

শিশুর গোসলের প্রতি সকলে অবশ্যই যত্নবান হওয়া উচিৎ। বড়দের গোসলের প্রসাধনী দিয়ে শিশুকে গোসল করানো শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শিশুর জন্য baby soap বা baby shampoo ব্যবহার করা উচিৎ। কেননা শিশুদের জন্য প্রসাধনীতে ক্ষারের মাত্রা কম থাকে। যা শিশুর ত্বকের জন্য সহনীয়।

শিশুকে গোসল করানোর সময় গায়ে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে, মাথায় অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করানো উচিৎ। 

গোসলের পর শিশুর শরীরে ময়েশ্চারাইজার বা Baby Cream লাগাতে হবে। এতে শিশুর ত্বক মসৃণ থাকবে।

২। শিশুর হাত ধোয়া

ছোটবেলা থেকেই শিশুর হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর, কিংবা খাওয়ার আগে ভাল করে শিশুর হাত ধুয়ে দিন। এতে শিশু সুস্থ থাকবে এবং তার মাঝে হাত ধোয়ার অভ্যাসও গড়ে উঠবে।

৩। শিশুর দাঁতের যত্ন

শিশুর দুধ দাঁত উঠার আগ পর্যন্ত নরম সুতির কাপড় দিয়ে শিশুর মাড়ি পরিষ্কার করে দিতে হবে। এতে শিশুর মুখের ভেতর পরিষ্কার থাকবে। দাঁত উঠার পর শিশুকে নরম ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করাতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার পরে শিশুকে ব্রাশ করার অভ্যাস করাতে হবে। এছাড়া শিশুকে ফ্লসিং করানো শেখাতে হবে। শিশুর জন্য অবশ্যই baby toothpaste ব্যবহার করতে হবে।

চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার পর শিশুকে ব্রাশ করাতে হবে। অন্যথা দাঁতের ভেতরে ক্যাভিটি জন্মাতে পারে।

৪। শিশুকে চিন্তা করার স্বাধীনতা

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে কাজ করার বা চিন্তা করার স্বাধীনতা দেয়া উচিৎ।

ধরুন, আপনি তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, যে এরকম পরিস্থিতিতে তুমি কি করতে? এভাবে শিশুর চিন্তাধারা বিকশিত হবে। শিশুর চিন্তার জগত বড় হবে। অথবা কোন কাজ করার আগে আপনি শিশুর মন্তব্য নিতে পারেন। এতে শিশু পরিবারে তার গুরুত্ব অনুভব করবে এবং নিজের মতো করে সিধান্ত নিতে শিখবে। 

৫। শিশুর নখ কাটা

শিশুরা কারণে অকারণে মুখে আঙুল দিয়ে থাকে। নখ খেয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে শিশুর নখ যেন বেশি বড় না হয়। নখ বড় হলে নখের ভেতরে জীবাণু আটকে থাকতে পারে। তা পেটে গেলে পেট খারাপ সহ নানা অসুখ করতে পারে। তাই শিশুর নখ সমসময় ছোট করে কেটে রাখতে হবে।

পেট খারাপের ভয় ছাড়াও শিশুর ধারলো নখের খামচি লেগে শিশুর শরীরে বা গালে দাগ কেটে যেতে পারে।

৬। কাজে উৎসাহ দেয়া

শিশুকে সকল কাজে উৎসাহ প্রদান করা উচিৎ। এতে শিশু ভাল কাজ করার অনুপ্রেরনা পাবে। নতুন নতুন কাজ করার আগ্রহ পাবে। তাকে যদি তার পছন্দের কাজ করায় নিরুৎসাহিত করা হয় তবে, সে পরবর্তীতে দেখা যাবে কোন কাজেই উৎসাহ পাচ্ছে না। বরং নিজেকে হেয় মনে করবে। তাই, শিশু নিজের উৎসাহে কোন কাজ করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া বা নিরুৎসাহিত করা মোটেই উচিত নয়।

৭। খেলনা বা খেলার জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা

শিশুর খেলনা এবং শিশুর খেলার জায়গা সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। কেননা, শিশুরা খেলনা মুখে দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে খেলনা যদি ময়লা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুর পেট খারাপ বা ডায়রিয়া হতে পারে। 

এছাড়া শিশুকে কখনো একা খেলতে দেয়া উচিৎ না। তাদের সাথে সবসময় বড় কাউকে থাকা উচিৎ। কেননা, অনেক সময় তাদের ছোট খেলনা বা খেলনার ভাঙ্গা টুকরো তারা মুখে দিয়ে দিতে পারে।

৮। শিশুর খাবার

শিশুকে বাসি খাবার খাওয়ানো উচিৎ নয়। স্বাস্থ্যসম্মত এবং টাটকা খাবার খাওয়ানো উচিৎ। শিশুর প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন রান্না করা উচিৎ। প্রয়োজনে শিশুর খাদ্যের তালিকা করে নেয়া যেতে পারে।

আপনার শিশুর প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে যাবেন Shobuy-এ।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment