37th-blog

রাতে ভালো ঘুমে হবে যেভাবে

ঘুমে সমস্যা হচ্ছে? বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুধু একাত থেকে ওকাত ফিরচ্ছেন? আমাদের অনেকেরই পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার সমস্যা রয়েছে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে একের পর এক নির্ঘুম রাত। ফলে দেখা যায় শরীর ও মন কোনটাই ভাল থাকছে না। সারাদিন খুব ক্লান্ত যাচ্ছে। ঠিকমত কাজে মন বসছে না। শারীরিক নানা ত্রুটিও দেখা দিচ্ছে। ত্বকে পিম্পল উঠা সহ দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। 

আমাদের প্রতিদিনের রুটিনে সামান্য একটু পরিবর্তন নিয়ে এলেই আমাদের ভালো ঘুম হতে পারে। আসুন জেনে নেয়া যাক, ভালো ঘুম হবার জন্য ১০টি টিপস।

১। শারীরিক পরিশ্রম করা

শারীরিক পরিশ্রম করলে আপনার ভাল ঘুম হবে। যেমন- হাঁটাহাঁটি, ওয়ার্কআউট,  সুইমিং ইত্যাদি করা। এছাড়াও ঘরে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ এবং ইয়োগাও করতে পারেন। এতে আপনার মন প্রফুল্ল থাকবে। ঘুম ভাল হবে।

২। ঘর পরিপাটি রাখা

আপনার ঘরকে সবসময় পরিপাটি রাখুন। এলোমেলো ঘর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমানোর পূর্বে, আপনার ঘরকে পরিপাটি করে গুছিয়ে নিন। পরিষ্কার এবং আরামদায়ক বিছানার চাদর, বালিশের কভার লাগিয়ে নিন।

৩। নতুন পরিষ্কার বিছানার চাদর ব্যবহার

প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর, বালিশের কভার এবং পর্দা বদলে নিন। এতে রুমে নতুনত্ব আসবে। একই রকম রুম দেখতে দেখতে আমাদের একঘেয়েমি চলে আসে। তাই প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর, রুমের পর্দা পরিবর্তন করলে রুম দেখতে সুন্দর লাগে। আপনার মনও ফুরফুরে মেজাজে থাকবে। ঘুমও ভালো হবে।

৪। ঘুমের জায়গায় ঘুম, কাজের জায়গায় কাজ

বর্তমানে আমাদের সারাদিন ঘরে বসেই কাটছে। অফিসের কাজও আমরা ঘর থেকেই করছি। সেক্ষেত্রে আপনার ঘুমের জায়গা এবং আপনার কাজের জায়গা বা পড়াশোনার জায়গা পৃথক রাখুন। আপনার ঘুমের জায়গা অর্থাৎ বিছানায় অফিসের কাজ বা পড়াশোনা করা যাবে না। পড়াশোনা এবং অফিসের কাজ করার জন্য নির্ধারিত জায়গা রাখুন। টেবিলে বসে পড়ালেখা বা অফিসের কাজ করুন। আপনার বিছানাকে কেবলমাত্র আপনার প্রশান্তির জায়গা রাখুন।

৫। মধু দিয়ে দুধ

রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে এক/দু চা চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিন। এতে আপনার ভাল ঘুম হবে।

৬। স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট

দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পর্যন্ত পানি পান করুন। এছাড়াও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পরিহার করে, স্বাস্থ্যসম্মত ঘরে তৈরিকৃত খাবার, যেমন- শাকসবজি, স্যুপ, মৌসুমি ফল ইত্যাদি খাবার আপনার তালিকায় যুক্ত করুন।

৭। চা- কফি পরিহার

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন- চা, কফি বা কোল্ড ড্রিঙ্কস ইত্যাদি পান করা পরিহার করুন। ক্যাফেইন আমাদের শরীরে প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে। যা আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ঘুমানোর  ৮-৯ ঘণ্টা আগে চা, কফি পান করুন।

৮। ভালো লাগার কাজ

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে চলতে আমাদের জীবন কেমন যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে। এ যান্ত্রিক জীবনে নিজের মনকে ভাল রাখুন। যে কাজ করলে আপনার মন ভাল থাকে, আপনি প্রশান্তি পান, সে ধরনের কাজ করুন। আপনার শরীর এবং মনকে চাপমুক্ত করুন। যেমন- হালকা গরম পানিতে গোসল করে নেয়া, মেডিটেশন করা, আপনার বন্ধুবান্ধব বা প্রিয়জনের সাথে কথা বলা, ডায়েরি লেখা, মুভি দেখা, বই পড়া বা আপনার পছন্দের গান শোনা।

৯। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান। এতে আপনার বডি ক্লক অভ্যস্ত হবে। পরবর্তীতে আপনার ঘুমের সময়ই ঘুম হবে। স্লিপ সাইকেল বজায় থাকবে। আপনার বডি আপনাকে ঘুমাতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিবে।

১০। ডাক্তারের পরামর্শ

সব কিছুর পরও যদি আপনার ঘুমে সমস্যা থেকে থাকে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন প্রকার ঘুমের ওষুধ সেবন করবেন না।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment