51st Blog

যেভাবে এলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

আপনি কি সাগরের তলদেশে সামুদ্রিক প্রাণীদের মাঝে বিচরণ করতে চান? সাগরের গভীর তলদেশের রহস্য উদ্ঘাটন করতে চান? কেবল সামুদ্রিক জগত কেন, পৃথিবী এবং মহাকাশ জগতের যেকোন জায়গা ঘুরে আসা যাবে এখন খুব সহজেই। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ঘরে বসেই আপনি বিচরণ করতে পারেন এক জগত থেকে অন্য জগতে।

ভেবে অবাক হচ্ছেন? ঘরে বসেই কিভাবে মহাকাশের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব বলে ভাবচ্ছেন? ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাথে বিশ্ব ভ্রমন এখন হাতের নাগালে। তবে আসুন জেনে নেয়া যাক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হচ্ছে বর্তমানে আবিষ্কৃত এমন একটি প্রযুক্তি যা আপনাকে কল্পনার মাধ্যমে বাস্তবতার উপভোগ দিবে। আপনার সামনে যা ঘটবে সব কিছুই আপনার বাস্তব বলে মনে হবে। আপনার নিজেকে সেই পরিবেশের একটি অংশ বলে মনে হবে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি? 

ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমন একটি কৃত্রিম বা ত্রিমাত্রিক পরিবেশ তৈরি করে দেয়া হয়, যা সম্পূর্ণ বাস্তব বলে পরিলক্ষিত হয়। যেখানে বাস্তবের মতোই স্পর্শানুভুতি, দর্শণানুভূতি এবং শ্রবণানুভূতি হবে। ফলে আপনার মনে হবে আপনি যেন সেই কৃত্রিম পরিবেশেরই একটা অংশ।

Virtual Reality- এর মাধ্যমে যখন আপনি ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করবেন তখন আপনার চারপাশের সব কিছু কাল্পনিক হলেও বাস্তব বলে মনে হবে। ফলে আপনি সহজেই আমাজন বনের গহীনে, সমুদ্র তলদেশে  কিংবা চাঁদের দেশে পৌঁছে যেতে পারবেন। বনের হিংস্র প্রাণী আপনাকে তাড়া দিচ্ছে বলে মনে হবে আপনার। সেই এক অদ্ভুত এবং রোমাঞ্চক অনুভূতি।

বলতে গেলে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আপনাকে সম্পূর্ণ ভাবে  3D এবং  5D world-এ নিয়ে যাবে। 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস

আমাদের অনেকের কাছেই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস অজানা। এটিকে আমরা বর্তমান বা আধুনিক প্রযুক্তির অবদান বলে ধারণা করে থাকি। তাই আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস প্রায় দেড়শত বছরেরও আগের।

১৮৩৮ সালে ফরাসি কবি ও নাট্যকার অ্যান্টনিম আরচিউড The Theatre and Double নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি Virtual reality শব্দটি ব্যবহার করেন। ধারণা করা হয় Virtual reality এর সম্পর্কিত ধারণা ইতিহাসে সেটাই প্রথম।

পরবর্তীতে ব্যবহার করা হয় আঠারো শতকে ত্রিশ এর দশকের দিকে Stereoscope আবিস্কার করার সময়। Stereoscope আবিস্কারের জন্য ইমেজ প্রোজেক্ট তৈরির জন্য একধরণের টুইন মিরর (twin mirror) ব্যবহার করা হয়। ধারণা করা হয়, ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ধারনা সেকালেই পাওয়া যায়।

এরপর ডেমিয়েন ব্রডরিক তাঁর Thed Judas Mandala নামক সায়েন্স ফিকশনেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দটি বেশ কয়েকবার ব্যবহার করেন।

পরবর্তীতে Morton Heili ১৯৬১ সালে বাস্তবিক উপায়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি উপস্থাপনের জন্য এক ধরণের যন্ত্র আবিষ্কার করেন। যার নাম দেন সেন্সোরমা সেমুলেটর। এ যন্ত্রটির মাধ্যমে বাস্তব উপায়ে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি উপস্থাপন করা গেলেও, বর্তমান আধুনিক ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মতো এটিতে কোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় নি।

তবে আধুনিক ভার্চুয়াল রিয়ালিটির যাত্রা শুরু হয় কবে থেকে?

১৯৮০ সালের পর থেকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি শব্দের সাথে ধীরে ধীরে সকলে পরিচিত হতে শুরু করে। এ নিয়ে শুরু হতে থাকে নানা গবেষণা। তবে আজকের ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সূচনা হয় ১৯৮৪ সালে, Visual Program Lab (VPL) কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হ্যাকার লেনিয়ারের হাত ধরে।

যা আপনাকে মুহূর্তেই নিয়ে যাবে সাগর তলদেশে। যার ফলে সামুদ্রিক মাছের সাথে ঘুরে বেড়াতে পারবেন সমুদ্র তলদেশে। গহীন জঙ্গলে ঘুরতে ফিরতে পারবেন ডায়নোসারের পিঠে চড়ে।

 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক ব্যবহার

১। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির নানান জটিল বিষয়ক গবেষণায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগ করা হয়। 

২। শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এর ফলে যেকোন জটিল বিষয় সহজে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। 

৩। যেকোনো খেলায় অংশগ্রহণ করা সহজ হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে কম্পিউটারেই খেলার অনুশীলন করা সম্ভব হচ্ছে।

৪। চিকিৎসাক্ষেত্রে অতুলনীয় প্রভাব ফেলছে। এর ফলে অত্যন্ত জটিল অপারেশনও সূক্ষ্মভাবে করা সম্ভব।

৫। চিকিৎসকদের নতুন নতুন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া যাচ্ছে খুব সহজেই। এর ফলে ব্যাপারগুলো সহজতর এবং বোধগম্য হচ্ছে।

৬। যেকোন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে এর ত্রিমত্রিক সিমুলেশন বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রস্তুত করে এর যথার্থতা যাচাই করে নেয়া যেতে পারে খুব সহজেই। তাই এটি যেকোন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে জটিল বিষয়কে সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment