44th-blog

মাইগ্রেনের পীড়া থেকে রেহাই পাবেন যেভাবে

মাথা ব্যাথা যে কতটা পীড়াদায়ক এটা বলে বুঝানোর মতো না। আর একবার মাইগ্রেনের ব্যাথা উঠলে তো জান কবজ করে ফেলার মতো অবস্থা হয়ে যায়। স্বাভাবিক মাথা ব্যাথার তুলনায় মাইগ্রেনের ব্যাথা হয় আরও তীব্র। তখন যে কোন প্রকার কাজ করাই অসম্ভব হয়ে যায়।

সাধারণত যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিৎ। তবে প্রাথমিকভাবে ব্যাথা কমানোর জন্য কিছু উপায় আমাদের জেনে রাখা উচিৎ। তাই আসুন জেনে নেই, এই পীড়াদায়ক মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতে আমাদের করণীয় কি কি। 

১। গরম পানীয় পান করা

মাইগ্রেন মূলত স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ। মস্তিষ্কের ক্যামিকেলের ভারসাম্যহীনতার কারণে মাইগ্রেনের ব্যাথা উঠে থাকে। অনেক সময় ব্রেইনের সমস্যা বা জেনেটিক কারণেও এটি হতে পারে। মাইগ্রেন যেন একটি যমদূত। এর পীড়া শুরু হলে অনেকেই যন্ত্রণায় ছটফট করে থাকেন। এর ফলে মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করে। অনেকের ক্ষেত্রে ঘুম পায়, কোন কাজ মনোযোগ সহকারে করতে পারেন না। এমনকি মাথা নাড়তেও খুব কষ্ট হয়। এরকম অবস্থায় গরম পানীয়, যেমন- চা বা কফি অথবা গরম পানি পান করতে পারেন। 

২। তীব্র আলো এড়িয়ে চলা

কড়া রোদে বা অনেকক্ষণ ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের মনিটরে তাকিয়ে থাকলে তীব্র মাইগ্রেনের ব্যাথা অনুভব হয়। আর একবার শুরু হলে প্রায় ৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা দীর্ঘ সময়জুড়ে এ ব্যাথা আপনাকে ক্রমাগত পীড়া দিতে পারে। তাই যথাসম্ভব তীব্র আলো এড়িয়ে চলাই ভালো। সেক্ষেত্রে দিনের বেলা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস বা রোদ চশমা পরে বের হতে পারেন। এছাড়াও ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা কিংবা হ্যাট বা টুপি সাথে করে নিয়ে বের হতে পারেন।

একটানা অনেকক্ষণ কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে, বিরতি নিয়ে কাজ করুন। এতে আপনার চোখ বিশ্রাম পাবে। মাইগ্রেনের ব্যাথায় আরাম পেতে পারেন।

৩। কম সাউন্ডে গান শোনা এবং গন্ধযুক্ত পারফিউম পরিহার করা

মাইগ্রেনের ব্যাথা প্রচন্ড শব্দ এবং তীব্র গন্ধের কারণেও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। মাইগ্রেন এট্যাক শুরুর পূর্বে মস্তিষ্কের ট্রাইজিমিনাল স্নায়ুগুলো থেকে নিউরো পেপটাইড নামক একধরণের ক্যামিকেল নিঃসৃত হতে থাকে। যার মধ্যে সিজিআরপি নামক একধরনের ক্যামিকেল থাকে। সাধারণত এই ক্যামিকেলের কারণেই মাইগ্রেনের পীড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। তাই তীব্র শব্দ এড়িয়ে চলতে পারেন। যেমন- প্রচন্ড আওয়াজের পরিবর্তে সাউন্ড কমিয়ে মুভি বা গান শুনতে পারেন। কোমল মিউজিক শুনতে পারেন। যা আপনাকে রিলেক্স রাখবে। যে ধরণের তীব্র গন্ধে আপনার মাইগ্রেনের ব্যাথা বেড়ে যায়, সে ধরণের তীব্র পারফিউম বা ফ্রেশনার ব্যবহার করা বন্ধ করুন।

৪। চিন্তামুক্ত বা স্ট্রেস ফ্রি থাকুন

যতটুকু সম্ভব দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। চিন্তামুক্ত থাকুন। মাইগ্রেনের ব্যাথা বেড়ে গেলে স্ট্রেস রিলিফার ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা ইয়োগা করতে পারেন।

৫। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের অভাবে মাইগ্রেনের ব্যাথা বৃদ্ধি পায়। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমান।

তবে মাইগ্রেনের ব্যাথা যে কেবল মাথা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে তা কিন্তু না। এর ফলে দৈহিক পীড়াও দেখা দেয়। শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘুরানো, বমি বমি ভাব হওয়াসহ হজম প্রক্রিয়াও ব্যাঘাত ঘটে থাকে।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment