52nt-Blog

ব্লকচেইন কি? কিভাবে কাজ করে?

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ব্লকচেইন প্রযুক্তি আমাদের কাছে ভরসার জায়গা। তবে এ ব্লকচেইন প্রযুক্তিটি কি? কিভাবে এটি আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে? আসুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত।

ব্লকচেইন কি? 

সারাধণ ভাষায় ব্লকচেইন হল ব্লক দিয়ে তৈরি চেইন। অনেকগুলো ব্লক একের পর এক রেখে একসাথে জোড়া লাগিয়ে তৈরি হয় ব্লকচেইন। 

Blockchain হলো এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে অধিক সংখ্যক ডাটা ব্লক থাকে। ব্লকচেইনের উৎপত্তি অনেকটা ইন্টারনেট আবিষ্কারের মতোই। ইন্টারনেট যেমন লক্ষ লক্ষ কম্পিউটারের সংযোগে সৃষ্টি, ব্লকচেইনও তেমনি অনেক ব্লক পরস্পর সংযুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। ব্লকগুলোতে মূলত তথ্য সংরক্ষিত থাকে।

এ প্রযুক্তিতে ডাটাগুলো ব্লক অবস্থায় থাকে। ডাটাগুলো ব্লক করার জন্য ব্যবহৃত হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমেই ব্লকচেইনে ডাটাগুলো এনকোড করা হয়। ফলে একের পর এক ডাটা, পরস্পর যুক্ত হয়ে ব্লকচেইন গঠন করে। ডাটা ইনপুট দেয়ার পর ডাটাগুলো পরিবর্তন করা বা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

যেভাবে শুরু হয়েছিল ব্লকচেইনের যাত্রা

অনেকের কাছে ব্লকচেইন আধুনিক প্রযুক্তির মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এ প্রযুক্তিটি বেশ পুরাতন। ধারণা করা হয়, ১৯৯১ সালে এ প্রযুক্তির কৌশল সম্পর্কে সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা করেছিলেন স্টুয়ার্ট হ্যাবার এবং ডব্লিউ স্কট স্টর্নেটা।

১৯৯১ সালে এই ধারণা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটলেও, এ টেকনোলজি সম্পর্কে মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করা শুরু করে ২০০৮ সালের দিকে। নিরাপদ ভাবে ডাটা সংরক্ষণ কিংবা সংরক্ষিত ডাটা যেন কেউ পরিবর্তন করতে না পারে, এ উদ্দেশ্যেই ব্লকচেইনের উৎপত্তি।

২০০৮ সালে জাপান নাগরিক সাতোশি নাকামোতো ব্লকচেইন ব্যবহার করে আবিষ্কার করেন বিটকয়েন। বিটকনের নিরাপদ লেনদেনই ছিল তার এ আবিষ্কারের মূল উদ্দেশ্য। আবিষ্কারের ফলে ব্লকচেইন প্রযুক্তি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে ক্রিপ্টো-কারেন্সি লেনদেন করা সম্ভব হয়েছে। Blockchain Technology ব্যবহারের ফলে বিটকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি খুবই নিরাপদ।

যেভাবে কাজ করে ব্লকচেইন

ব্লকচেইনে রেকর্ডকৃত Data সবসময় সংরক্ষিত থাকে। কখনো মুছা যায় না। কেননা প্রতিটি ব্লকে তার আগের ব্লকের একটি ক্রিপ্টোগ্রাফিক হ্যাশ এবং একটি টাইমস্ট্যাম্প রয়েছে। যার মাঝে থাকে সকল লেনদেনের তথ্য। ব্লকচেইনে রেকর্ডকৃত তথ্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

প্রতিটি ব্লক মূলত তিনটি জিনিস দ্বারা গঠিত। যথা-  ব্লকটির নিজস্ব ডাটা, সেই ব্লকের নিজস্ব হ্যাশ এবং চেইনে থাকা আগের ব্লকের হ্যাশ। প্রতিটি ব্লকের হ্যাশ একে অপরের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্লকচেইনে কখনোই একই রকমের কোন হ্যাশ ব্যবহৃত করা যায় না। অনেকটাই আমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো। ব্লকের ডাটা অনুযায়ী হ্যাশগুলো জেনারেট করা হয়।

ব্লকচেইনের ডাটাগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যেকোন ব্যক্তি ভেরিফাই করতে পারে। কেননা ব্লকগুলো পেয়ার টু [পেয়ার নেটওয়ার্ক (P2P) এর মাধ্যমে গঠিত থাকে।

ব্লকচেইনের ব্লকগুলোতে ব্লকের হ্যাশ, টাইমস্ট্যাম্প এবং লেনদেনের ডাটা সংরক্ষণ করা হয়। ব্লকচেইনের নোডগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে। যা সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। নোডগুলো সবসময় পরস্পরের সাথে তথ্য আদান প্রদান করতে থাকে। ফলে নোডগুলো সবসময় আপ টু ডেট থাকে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তির ব্যবহার

ব্লকচেইনে সকল ডাটা বা উপাত্ত গোপন থাকায়, যেকোন ধরণের তথ্য চুরি হওয়া রক্ষা পাওয়া এবং দুর্নীতি ঠেকাতে ব্লকচেইন আজ প্রায় প্রতিটি খাতেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়াও ব্লকচেইনে ডাটা সংরক্ষণে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। কেননা যেকোন ডাটা যুক্ত করার সময় ব্লকচেইনের লেনদেন যাচাই করা হয়।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারে কোন প্রকার তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন পড়ে না। তাই লেনদেনও হয় ঝামেলামুক্ত।

প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে আজ সারা বিশ্বে ব্লকচেইনের ব্যবহার ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন খাতে। যেমন-

১। ব্যাংকিং খাতে

২। শেয়ার বাজারের লেনদেনের কাজে

৩। সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায়

৪। স্বাস্থ্য খাতে

৫। শিক্ষা খাতে

৬। তথ্য ও প্রযুক্তিতে

৭। বিভিন্ন সরকারি পরিকল্পনার কাজে

৮। গোয়েন্দা ব্যুরো বা যেকোন নিরাপত্তা বিভাগের কাজে

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment