49th-Blog

থ্রিডি প্রিন্টিংঃ বিশ্ব বদলে দেয়া আধুনিক প্রযুক্তি

প্রিন্টিং আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। তবে আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, এ প্রিন্টিং-এর যাত্রা কবে এবং কোথা থেকে শুরু হয়েছে? আসুন, প্রিন্টিং এর আদি ইতিহাস এবং বর্তমানে বহুল আলোচিত আধুনিক প্রযুক্তির থ্রিডি প্রিন্টিং সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

প্রিন্টিং-এর আদি ইতিহাস

মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম প্রিন্টিং এর ব্যবহার কোথায় শুরু হয়, তা নিশ্চিত ভাবে বলা না গেলে, ধারণা করে চীনের হাত ধরেই যাত্রা শুরু হয় প্রিন্টিং-এর। নানা নতুন পদ্ধতিতে কাপড়ে রঙিন নকশা ফুটিয়ে তুলতে দেখা যায় প্রথম চীন দেশেই। নানা নকশা খচিত কাঠের ব্লক দিয়ে কাপড় ছাপা হত। এছাড়াও কাপড়ে রং বেরঙের নকশা ফুটাতে ব্যবহার করা হতো গলিত মোম। এভাবেই ধীরে ধীরে প্রিন্টিং এর ব্যবহার শুরু করে চীন দেশের মানুষেরা।

প্রিন্টিং জগতে রূপ নিতে থাকে ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তি। আমাদের আজকের থ্রিডি প্রিন্টার, প্রিন্টিং ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ১৯৮৪ সালে চার্লস ডব্লিউ এর হাত ধরেই সর্বপ্রথম আধুনিক থ্রিডি প্রিন্টারের যাত্রা শুরু হয়। আবিষ্কারক হিসেবে চার্লস পরিচিত হলেও, এ ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিটিকে ব্যবহার উপযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, হিদেও কোদামা। হিদেও কোদামা ছিলেন জাপান দেশের নাগরিক।

থ্রিডি প্রিন্টিং কি? কিভাবে কাজ করে?

থ্রিডি প্রিন্টিং বলতে যে কাগজের উপর কালির প্রিন্ট করাকে বুঝায় তা কিন্তু নয়। সাধারণ প্রিন্টারের তুলনায় থ্রিডি প্রিন্টারের অনেকাংশেই ভিন্নতা রয়েছে। থ্রিডি প্রিন্টারের ফলে যেকোনো বস্তুকে অবিকল বাস্তবিক রূপ প্রদান করা যেতে পারে। সাধারণ প্রিন্টিং এর সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে এটিতে কালির পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় প্লাস্টিক।

থ্রিডি প্রিন্টিং মূলত কম্পিউটার সফটওয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো বস্তুর ত্রিমাত্রিক আকার দেওয়াকে বুঝায়। এ ধরণের প্রিন্টিংগুলোকে বেশ জীবন্ত এবং বাস্তব বলে মনে হয়। এর পেছনের কারণটি হচ্ছে, যেকোনো বস্তুর ত্রিমাত্রিক ছবি স্ক্যান করে, সে ছবিটি কম্পিউটার সফটওয়ারে প্রসেস করা হয়। বর্তমানে থ্রিডি প্রিন্টিং এর বেশ প্রচলন রয়েছে। পোশাক কিংবা অন্যান্য ব্যবহারিক দ্রব্যে এ প্রিন্টিং বহুলাংশে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার ফলে পছন্দ মাফিক নকশা বা বস্তু সহজেই প্রিন্ট করা সম্ভব। প্রিন্টিং ইতিহাসের প্রথমদিকে, প্রিন্টিং করা অনেক ব্যয়বহুল হলেও, এখন অনেকটাই আমাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে।

থ্রিডি প্রিন্টিং এর নানান ব্যবহার

বর্তমানে থ্রিডি প্রিন্টারের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবসায়িক কাজেও বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে অনেকেই ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন।  নিত্যনিতুন পোশাক ডিজাইন বা বাড়ির নকশা ডিজাইনের ক্ষেত্রে থ্রিডি প্রিন্টিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের অনুষঙ্গ কাগজ ও কালির পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ব্যবহৃত হয় প্লাস্টিক। একটির ওপর আরেকটি পাতলা স্তর যুক্ত হয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন নকশার থ্রিডি প্রিন্টিং। দেখতে বাস্তবের চেয়ে কোন অংশে দেখতে কম নয়। চাইলে আপনার প্রতিরূপও তৈরি করতে সম্ভব।  

 

থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রায় অভাবনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই আবিষ্কার ব্যবহার করে শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। কেননা, বর্তমানে এর ফলে বিভিন্ন কৃত্রিম অঙ্গবিশেষ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও যেকোনো ধরণের অস্ত্রবিশেষ, গাড়ি, অ্যাকশন ফিগার ইত্যাদি থ্রিডি প্রিন্টিং এর মাধ্যমে প্রিন্ট করা যায়।

উন্নত দেশের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, বর্তমানে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি সেবা পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশেও। নতুন এ প্রযুক্তিটির সম্বন্ধে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও থ্রিডি প্রিন্টিং-এর যথাযথ বিকাশ ঘটবে। দেশের দরিদ্র নাগরিকদের অঙ্গদানের মতো সেবা দেয়া যাবে কম খরচেই। এতে উপকৃত হবে অনেকেই।

এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিয়াল কাজে বিপুল চাহিদা মেটানোর জন্য কম খরচে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। বিশ্বে খ্যাত এই প্রযুক্তি সত্যিই আমাদের অবাক করে।

থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে ভবিষ্যতে সিনথেটিক ফুড তৈরি করা যাবে ধারণা করা যাচ্ছে। এছাড়াও প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই তৈরি করা যাবে বিভিন্ন প্রাণীর মাংস। 

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment