34th-blog

টাকা জমানোর কিছু নিনজা টেকনিক

টাকা জমাতে পারছেন না? অনলাইনে কেনাকাটা করে অহেতুক টাকা পয়সা খরচ করে ফেলছেন? তবে আপনাদের জন্য রয়েছে টাকা জমানোর কিছু নিনজা টেকনিক।

১। সঞ্চয়ের মোটিভেশন খুঁজে বের করা এবং মনস্থির করা

টাকা জমানোর জন্য সবচেয়ে জরুরী পদক্ষেপ হচ্ছে নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করা। আপনাকে মনস্থির করতে হবে যে আপনি কি কারণে টাকা সঞ্চয় করতে চাচ্ছেন। আপনি কি আপনার পছন্দের বিশেষ কোন জিনিস কিনতে চাচ্ছেন? নাকি আপনি ভবিষ্যৎ কোন পরিকল্পনার জন্য জমাতে চান? টাকা জমানোর কারণ খুঁজে বের করতে পারলে আপনি টাকা জমানোর জন্য মোটিভেশন পাবেন। ।

২। মাটির ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করা

প্রতিদিন ঘরে মাটির ব্যাংকে অল্প অল্প করে কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় যেসকল জিনিস আপনার না কিনলেও চলে, সেই টাকাটি মাটির ব্যাংকে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন কিছু কিছু করে ব্যাংকে ফেললে দেখবেন মাস শেষে আপনার হাতে অনেক বড় অংকের অর্থ জমা হয়েছে।

৩। মাসিক খরচের তালিকা তৈরি করা

বর্তমানে আমরা আমাদের জীবনের অধিকাশ সময়ই অনলাইনে কাটিয়ে থাকি। অনলাইনে শপিং করার হাজার সুবিধার মাঝে একটি গুরুত্বর অসুবিধা হচ্ছে, আমরা অনেকেই অনলাইন থেকে অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু অর্ডার করে ফেলি। বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিস্কাউন্ট এবং অফারের পাল্লায় পরে আমরা অনেকেই প্রয়োজনের বাইরে অনেক কিছু কিনে ফেলি। এভাবে আমাদের টাকা খরচের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এবং টাকা সঞ্চয়ের প্রবণতা প্রায় চলেই যাচ্ছে।

তাই আমাদের প্রতি মাসের শুরুতে খরচের তালিকা তৈরি করে ফেলা উচিৎ। তাহলে মাসের শুরুতেই আমাদের হাতে হিসেব থাকবে যে মাসিক কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে সে মাসে অতিরিক্ত খরচের কথা মাথায় থাকবে, ফলে অহেতুক কেনাকাটা থেকে আপনি নিজেকে বিরত রাখতে পারবেন। ফলে আপনার অর্থ সঞ্চয়ে সুবিধা হবে। 

৪। প্রতিহিংসামূলক আচরণ পরিহার করা

আমরা অনেক সময় অপরের জিনিস দেখাদেখি এমন কিছু কিনে ফেলি, যার আসলে আমাদের কোন প্রয়োজনই নেই। কেবল মাত্র প্রতিহিংসামূলক আচরণের কারণে আমরা এরূপ করে ফেলি। ফলে আমাদের অর্থ সঞ্চয়ের পরিবর্তে বরং অর্থ খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই এরূপ আচরণ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যের দেখাদেখি অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা পরিহার করলে আমাদের অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।

৫। বন্ধুদের সাথে রেস্টুরেন্টের বদলে ঘরে আড্ডা দেয়া 

বর্তমানে আমরা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া বলতে কোন রেস্টুরেন্টে বা কফিশপে আড্ডা দেয়াকে বুঝি। জন্মদিন বা ঈদ, যেকোনো উৎসবে আমরা আড্ডা দেয়ার জন্য রেস্টুরেন্টকেই বেছে নেই। আগের দিনের মতো বন্ধুদের বাড়িতে দাওয়াতে যাওয়া বা নিজের বাড়িতে বন্ধুদের দাওয়াত করা যেন আমরা প্রায় ভুলেই গিয়েছি। রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেয়ার ফলে দেখা যায় আমাদের পকেট  মানির একটা বড় অংশই খরচ হয়ে যায়। এভাবে অর্থ সঞ্চয়ের প্রবণতা আমাদের দিন দিন কমে গেছে।

সুতরাং রেস্টুরেন্ট এবং কফিশপে আড্ডা পরিহার করে বন্ধুদের সাথে ঘরে আড্ডা দিতে পারেন। এভাবে আপনার টাকাও সঞ্চয় হবে।

৬ । যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সাইকেল ব্যবহার করা

দেখা যায় প্রতিদিনের যাতায়াত ভাড়ায় আমাদের প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যায়। প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ কিছুটা কমিয়ে আনতে আপনি সাইকেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার অর্থের পাশাপাশি সময়ও বাঁচবে। আবার দেহও সুস্থ থাকবে।

৭। অল্প রাস্তায় রিকশায় না চড়ে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা

আমরা অনেকেই আছি অল্প দূরত্বের রাস্তায়ও আমরা না হেঁটে রিকশায় চড়ে বসি। এ অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারলে আমাদের অর্থ সঞ্চয়ের সাথে স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।

৮। অর্থের অপচয় রোধ করা

আমরা অনেক সময়ই আমাদের পছন্দের জিনিস অকারণেই কিনে থাকি। যেমন- ধরুন আপনার গয়না বা শাড়ি সংগ্রহ করতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু আপনার কাছে বর্তমানে অনেক শাড়ি এবং গয়না আছে। যা আপনার কোন কাজে আসছে না। তবুও আপনি শখের বশে আরও কেনার পরিকল্পনা করছেন। তাই এ ধরণের শখকে একটু বিবেচনা করতে হবে। তবেই অর্থ সঞ্চয় সম্ভব। 

কথায় আছে না, ছোট ছোট বালুকণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল। হয়তো আপনি ভাবতে পারেন, এতো অল্প পরিমাণ টাকা জমা করে কি আর হবে? এ ধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তবেই টাকা জমানো সম্ভব।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment