6842e3af-c32e-430a-b153-d1c5755185f5

জনপ্রিয় ৬টি কুকুরের ব্রিড

১। ল্যাব্রাডর রেট্রাইভার (Labrador Retriever)

আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় কুকুর ল্যাব্রাডর রেট্রাইভার। উদ্ধারকারী কুকুর হিসেবে এরা সুপরিচিত। বন্ধুসুলভ আচরণ, ওয়ার্কিং ডগ এবং স্পোর্টিং ডগ হিসেবেও এরা বেশ জনপ্রিয়। তবে ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, জেলেদের সাহায্যকারী কুকুর হিসেবে এদের ব্যবহার হতো। ইংল্যান্ডের জেলেরা ১৮০০ সালের দিকে Labrador Retriever জাতের কুকুরদের ইংল্যান্ডে নিয়ে আসে। শিকারের কাজেও এদের ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এ জাতের কুকুরগুলোকে উদ্ধারকারী কুকুর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন বাহিনীতে অনুসন্ধানের কাজে এ ধরণের কুকুর ব্যবহার করা হয়। কেননা এদের ঘ্রাণ শক্তি খুব প্রখর। তাই দূর দূরান্ত থেকে গন্ধ শুঁকে এরা শিকার খুঁজে বের করতে সক্ষম। রেট্রাইভার অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত হয়ে থাকে। এরা অত্যন্ত প্রভুভক্ত। এরা আকারে মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। এদের শরীরে বেশ ঘন এবং প্যাঁচানো লোম থাকে।

২। জার্মান শেপার্ড (German Shepherd)

আমরা অনেকেই জার্মান শেপার্ড এবং আলসাশিয়ান ডগকে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির কুকুর বলে মনে করে থাকি। এরা ভিন্ন প্রজাতির কোন কুকুর নয়। বরং ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রায় ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত  জার্মান শেপার্ডই আলসেশিয়ান নামে পরিচিত ছিল। এরা ভিন্ন কোন প্রজাতির কোন কুকুর নয়। কেবল এদের নামে ভিন্নতা ছিল। এরা ওয়ার্কিং ডগ ব্রিড হিসেবে অন্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

নেকড়ের মতো দেখতে কুকুরটি প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এজন্য বিভিন্ন বাহিনী যেমন- পুলিশ কিংবা মিলিটারি বাহিনীতে উদ্ধার বা অনুসন্ধান কাজে জার্মান শেপার্ড কুকুর ব্যবহার করা হয়।

German Shepherd নামের পেছনের কাহিনী আমাদের অনেকেরই অজানা। প্রথম দিকে ভেড়ার পাল দেখাশোনা করার জন্য এদেরকে ব্যবহার করা হতো। সে অনুসারে এদের প্রশিক্ষণও দেয়া হতো। মূলত এ কারণেই এদের Shepherd নামকরণ করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে এদের দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তা বিচার করে দেখা যায়, ভেড়ার পাল পাহারা দেয়ার চেয়েও অনেক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন এরা। তাই এরপর থেকে এদের শিকার বা অনুসন্ধানের কাজে ট্রেইনিং দেয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে জার্মান শেপারড বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এদের শরীরের উচ্চতার তুলনায় দৈর্ঘ্য বেশি হয়। এরা পরিচিতদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করে। এবং এরা বেশ প্রভুভক্ত হয়। তবে অপরিচিতদের জন্য এরা আতঙ্ক হতে পারে।

৩। সাইবেরিয়ান হাসকি (Siberian Husky)

নেকড়ের মতো দেখতে সাইবেরিয়ান হাসকি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি কুকুরের ব্রিড। এরা সাধারণত পূর্ব সাইবেরিয়া অঞ্চলের কুকুর। বরফ অঞ্চলের স্লেজ গাড়ি টানার জন্য সাধারণত পূর্বে এদের ব্যবহার করা হতো। এদের দেহে দুই আবরণ বিশিষ্ট লোম থাকে। যা তাদের ঠাণ্ডা পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। তবে এরা যে কেবল শীতল বা ঠাণ্ডা পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে তা কিন্তু নয়। গরম আবহাওয়ায়ও এরা ভালমতোই টিকে থাকতে পারে।

Siberian Husky বেশ উদ্যমী ও এথলেটিক জাতের কুকুর। এদের চোখের রং হালকা নীল, সবুজ এবং হালকা হলদে হয়ে থাকে। যার কারণে এদের দেখতে আরও আকর্ষণীয় লাগে। এমনকি তাদের দু’চোখ দুই রঙেরও হয়ে থাকে। অন্যান্য কুকুরের মতো এরা ঘেউ ঘেউ করে ডাকে না। বরং উলফ বা নেকড়ের মতো করে হাওল করে  ডাকে। পোষা প্রাণী হিসেবে এরা উপযুক্ত। এরা খুব সহজেই সবার সাথে মিশে যেতে পারে। এবং এরা বেশ প্রাণবন্তও বটে।

৪। বুলডগ (Bulldog)

Bulldog প্রধানত একটি ব্রিটিশ ডগ। তবে এর জনপ্রিয়তা আমেরিকাসহ এখন বিশ্বজুড়ে রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজদের সাথে এরা আমেরিকায় আসে। এরপর থেকেই পোষা প্রাণী হিসেবে বুলডগের জনপ্রিয়তা আমেরিকায় বৃদ্ধি পেতে থাকে।

দেখতে মাংসল এবং কুঁচকানো শরীরের এই কুকুরটি সহজেই যেকোনো পরিবারের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম। এরা বেশ শান্ত এবং বন্ধুসুলভ প্রকৃতির হয়। সাধারণত কুকুরেরা ভালো সাঁতারু হয়। তবে বুলডগ পানিতে সাঁতার কাটতে তেমন পছন্দ করে না।

৫। পোডল (Poodle)

স্পোর্টিং ডগ হিসেবে Poodle অন্যতম জনপ্রিয় কুকুরের জাত। দেখতে পুতুলের ন্যায় এই কুকুরটি পোষা প্রাণী হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। এরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং আত্মসম্মান সম্পন্ন কুকুর।

Poodle বিশ্বব্যাপী ২য় বুদ্ধিমান কুকুরের জাত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এরা সকলের সাথে খুব মার্জিত আচরণ করে। এখন পর্যন্ত তিন ধরণের পোডল রয়েছে। যথাঃ স্ট্যান্ডার্ড পোডল, মিনিয়েচার পোডল এবং টয় পোডল। এদের শরীরে একদম টেডি বিয়ারের মতো ঘন এবং কোমল লোম থাকে। অনেকেই তাদের পছন্দমতো এদের হেয়ারস্টাইলও করে থাকেন। শিশু এবং বড়দের কাছেও Poodle অত্যন্ত প্রিয়।

৬। Shih Tzu

তিব্বতের Shih Tzu জাতের কুকুরটিকে আমরা টয় ডগ হিসেবে চিনি। এরা আকারে অনেক ছোট হয়। আকারের জন্য এরা বিশ্বজুড়ে খ্যাত।

এদের শরীরের পশম বা লোম অনেক ঘন, লম্বা এবং কোমল হয়। যার কারণে এদের দেখতে বেশ কিউট লাগে। এরা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং প্রফুল্ল মেজাজের কুকুর। সবসময় হাসিখুশি এবং প্রাণবন্ত থেকে ঘরের সবার মনকেও প্রাণবন্ত রাখে। পোষা প্রাণী হিসেবে এদের পালতে অত্যন্ত যত্নের প্রয়োজন হয়। নিয়মিত হেয়ার গ্রুমিং করতে হয়।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment