99290c50-d8f6-4ff0-9b91-17439b024765

জনপ্রিয় ১০টি বিড়ালের জাত

১। বাংলা বিড়াল (Bengal Cat)

চিতাবাঘের মতো দেখতে Bengal Cat এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে বেশ বিখ্যাত। এরা দেখতে কালো ও সোনালি ছোপ যুক্ত, চকচকে এবং সাধারণ বিড়ালের চেয়ে আকারে কিছুটা বড় আকৃতির হয়ে থাকে। এদের দৈহিক গড়ন এবং চালচলন পুরোই চিতাবাঘের ন্যায়। এদের মধ্যকার বন্য ভাবটির কারণে এরা বেশ জনপ্রিয়। এরা মূলত Asian Leopard Cat ও American Domestic Cat এর ক্রস ব্রিড।

২। জার্মান রেক্স (German Rex)

জার্মান রেক্স কোঁকড়ানো চুলের বিড়ালগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম জাত। এ জাতের বিড়ালগুলোর নতুন জায়গায় অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগে। প্রথমে এরা লুকিয়া থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এরা শিশুদের সাথে খুব ভাল মিশতে পারে। শিশুরাও এদের সাথে থাকতে এবং খেলতে খুব ভালোবাসে। জার্মান রেক্স কুকুরের সাথেও ভালো মিশতে পারে।

জার্মান রেক্সস দেখতে মাঝারি আকারের হয়ে থাকে। এরা সাদাসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে কর্নিশ রেক্সের সাথে এদের মিল রয়েছে। 

৩। অস্ট্রেলিয়ান মিস্ট (Australian Mist)

আপনি কি আপনার কিংবা আপনার শিশুর জন্য একটি পোষা বিড়াল খুঁজছেন? তাহলে আপনার জন্য অস্ট্রেলিয়ান মিস্ট জাতের বিড়াল হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট পোষা বিড়াল। Australian Mist পোষা প্রাণী হিসেবে আদর্শ একটি ব্রিড। বিশেষ করে, এরা যেকোনো বয়সের শিশুদের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে। এবং অল্প সময়েই খুব প্রাণবন্ত বোধ করে। এরা বেশ সহনশীল। তাই এই জাতের বিড়ালের সাথে আপনি আপনার শিশুকে নিশ্চিন্তে খেলতে দিতে পারেন।

৪। পার্সিয়ান বিড়াল (Persian Cat)

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিড়ালদের মধ্যে একটি পার্সিয়ান ক্যাট। এদের উৎপত্তি স্থান বা জন্মস্থান  মূলত পারস্য বা ইরানে হলেও এরা আমেরিকায় সরচেয়ে জনপ্রিয় বিড়াল হিসেবে বিবেচিত। তবে আমাদের দেশেও এদের জনপ্রিয়তা অনেক। এসব বিড়ালকে সেলিব্রেটি ক্যাট হিসেবেও চেনা যায়। এ জাতের বিড়ালগুলোর শরীরে লম্বা ঘন লোম থাকে। এরা বেশ fluffy হয়ে থাকে। পোষা প্রাণী হিসেবে এ জাতের বিড়ালটি আমাদের অনেকেরই পছন্দ। এরা বেশ শান্ত এবং অলস প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে এদের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয়। এরা Cat Food খেতেও বেশ পছন্দ করে।

৫। স্ফিংস ক্যাট (Sphynx Cat)

Sphynx Cat একটু বিদঘুটে দেখতে হলেও, আমাদের অনেকেরই পছন্দের ব্রিড এটি। এরা বেশ দামি। এদের শরীরে কোন পশম বা লোম নেই। অন্যান্য বিড়ালের মতো এদের কোন লোম নেই বলেই শীত এবং গ্রীষ্মকালে এদের প্রতি প্রচুর যত্নবান হতে হয়। শীতকালে শীতের পোশাক পড়াতে হয়। গরম স্থানে রাখতে হয়। নয়তো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ্রীষ্মকালেও সানবার্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এ কারণে এরা বেশ সেনসিটিভ। এদের কান জোড়া বেশ বড় বড় হয়। বলতে গেলে এদের অনেকটা এলিয়েনদের মতো দেখায়। তবে এরা বেশ বন্ধুসুলভ এবং বুদ্ধিমান প্রাণী। এরা পোষা প্রাণী হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে এদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে।

৬। স্কটিশ ফোল্ড (Scottish Fold Cat)

পেঁচার মতো দেখতে Scottish Fold Cat খুবই শান্ত স্বভাবের। পোষা প্রাণী হিসেবে এরা বেস্ট বলা যেতে পারে। এরা অত্যন্ত বন্ধু সুলভ এবং সহজেই সবার সাথে মিশে যেতে পারে। এদের চেহারার সাথে এদের গলার স্বরও বেশ মিষ্টি। অন্যান্য বিড়াল থেকে এদের “মিয়াও” ডাকার ধরণে ভিন্নতা রয়েছে। অন্যান্য বিড়ালদের সাথে এদের আরেকটি বড় পার্থক্য রয়েছে এদের কানে। স্কটল্যান্ডের এই বিড়ালটির কান ভাঁজ হয়ে থাকে। তাইতো এরা স্কটিশ ফোল্ড নামে পরিচিত। ভাঁজ ওয়ালা কানের কারণে এদের চেহারা আরও গোলাকৃতি দেখায়। চেহারার সাথে এদের শারীরিক গঠনও গোলাকৃতির হয়ে থাকে। এছাড়াও এদের বড় বড় চোখ এবং বোচা নাকের কারণে এদের বেশ কিউট দেখায়।

৭। ম্যাঙ্কস বিড়াল (Manx Cat)

Manx Cat অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির একটি বিড়াল। এরা সবসময় প্রাণবন্ত থাকে। এরা কখনো বিরক্ত হয় বলে মনে না। আপনি যদি এমন বিড়াল খুঁজে থাকেন, যা আপনাকে এবং পরিবারের সকলকে আরও প্রাণবন্ত রাখবে, তবে এটি হতে পারে, আপনার জন্য পারফেক্ট Pet। এদের সাথে আপনিও থাকবেন Stressed Free। Manx Cat মানুষের সাথে থাকতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এধরণের বিড়ালগুলোর জেনেটিক মিউটিশনের কারণে লেজ থাকে না।

৮। ব্রিটিশ শর্টহেয়ার (British Shorthair)

বিড়ালের সবচেয়ে পুরাতন এবং জনপ্রিয় জাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্রিটিশ শর্টহেয়ার। এরা বেশ শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে। এ জাতের বিড়ালগুলোকে বিভিন্ন জনপ্রিয় মুভিতে বিভিন্ন জনপ্রিয় চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এমনকি এরা মিডিয়া স্টার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। এদের দেহের লোমগুলো বেশ ঘন ও ছোট আকারের। মূলত তাদের এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এদের নাম British Shorthair রাখা হয়েছে। এরা দেখতে নাদুসনুদুস এবং বেশ বুদ্ধিমান।

৯। সিয়ামিজ বিড়াল (Siamese Cat)

Siamese Cat মূলত এশিয়ান বা অরিয়েন্টাল রিজিওনের অন্যতম পুরাতন ব্রিড। এ ব্রিডের বিড়ালগুলোকে “The Royal Cats of Siam”-ও বলা হয়। এ নামে ডাকার পেছনেও একটি কারণ রয়েছে। থাইল্যান্ডের এ বিড়ালের জাতটি এক সময় কেবল রাজা এবং অভিজাত শ্রেণীর মানুষেরাই পুষতে পারত। রাজ্যের অন্য কারো এ বিড়াল পোষার কোন অনুমতি ছিল না। এর নামকরণও থাইল্যান্ডের পূর্ব নাম থেকেই করা হয়েছে। Siamese Cat প্রায় ১১-২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এদের সাথে স্ফিংস জাতের বিড়ালের কানের মিল রয়েছে। এরা বেশ aggressive বা মেজাজি হয়ে থাকে। হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে বা ক্ষুধা পেলে বা ভয় পেলে এরা আক্রমণ করে থাকে। তবে মানুষকে আক্রমণ করে না। অন্য বিড়ালের উপর আক্রমণ করে থাকে। তাই বলা হয়, অন্যান্য জাতের বিড়ালের তুলনায় এদের রাগ একটু বেশি। তবে এরা বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পোষা প্রাণী হিসেবে জনপ্রিয়। দিনের বেশির ভাগ সময়ই এরা একটিভ থাকে। এদেরকে বাচালও বলা চলে। কেননা এরা কথা বলতে খুব পছন্দ করে। অন্যান্য বিড়ালের তুলনায় এদের ম্যাও স্বরেও ভিন্নতা রয়েছে।

১০। রাগডোল ক্যাটস (Ragdoll Cats)

Ragdoll Cats মূলত ইনডোর ক্যাটস। এরা ঘরের ভেতরে থাকতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই পোষা প্রাণী হিসেবেই বেশি জনপ্রিয়। ঘরের বাইরে বের হলে এদের অবশ্যই দেখেশুনে রাখতে হবে। এরা স্বভাবে অত্যন্ত আদুরে হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত কুকুরকে প্রভুভক্ত প্রাণী হিসেবে চিনে থাকি। তবে Ragdoll Cats ব্রিডের বিড়ালগুলোও কুকুরের মতোই প্রভুভক্ত।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment