35th-blog

আপনার জিমেইল একাউন্ট সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

জিমেইল একাউন্ট হারিয়ে গেলে আমাদের ভয়ানক বিপদে পড়তে হয়। কেননা, বর্তমান অনলাইন নির্ভর জীবনে আমাদের প্রায় সব কিছুই চলছে জিমেইলকে কেন্দ্র করে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপের ব্যবহার, জরুরী মেইল আদান প্রদান, কিংবা হোক আমাদের হাজার হাজার ছবি ব্যাকআপ রাখা, জিমেইল ছাড়া বর্তমানে আমরা একটি মুহূর্তও কল্পনা করতে পারি না। তাই আমাদের Gmail account টি safe রাখতে কি করা প্রয়োজন আসুন জেনে নেয়া যাক। 

১। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন 

আমাদের অনেকেরই ধারণা জিমেইলে একাউন্ট খোলার সময় যেনতেন একটা পাসওয়ার্ড দিলেই হল! তবে আপনার এ ধারণাটি ভুল। আপনার জিমেইলের পাসওয়ার্ডটি শক্তিশালী হতে হবে। আপনার পাসওয়ার্ড যত স্ট্রং হবে, আপনার একাউন্টটি ততো সুরক্ষিত থাকবে। এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, যা সহজে কেউ অনুমান করতে পারবে না। পাসওয়ার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই কিছু ভুল করে থাকি। যেমন- নিজের নামে, বা প্রিয়জনের নামে পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকি। নিজের জন্ম তারিখ বা ফোন নম্বর পাসওয়ার্ড হিসেবে সেট করে থাকি। পাসওয়ার্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে এধরনের ভুল থেকে বিরত থাকুন।

তবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বলতে আমি কি বুঝাচ্ছি? আপনি কিভাবে বুঝবেন, আপনার পাসওয়ার্ডটি শক্তিশালী হয়েছে কিনা? তাই আসুন পাসওয়ার্ডকে শক্তিশালী করার কিছু টিপস জেনে নেয়া যাক। 

  • আপনার পাসওয়ার্ডটি ৮ বা তার অধিক অক্ষরের হওয়া উচিৎ। মনে রাখবেন, যত বেশি অক্ষর, ততো সুরক্ষিত একাউন্ট। তবে এতো কঠিন পাসওয়ার্ড দিয়ে ফেলেন না যেন পাসওয়ার্ডই ভুলে বসেন!
  • পাসওয়ার্ডটি আপারকেস ও লোয়ারকেস অক্ষরের সংমিশ্রণে হওয়া উচিৎ
  • অক্ষর ও নম্বরের সমন্বয় থাকতে হবে
  • ! @ # ? ] – এর মতো অত্যন্ত একটি স্পেশাল ক্যারেক্টার থাকা উচিৎ

২। রিকভারি ইমেইল ও ফোন নম্বর যুক্ত করুন

জিমেইল একাউন্ট খোলার সময় আরেকটি রিকভারি ইমেইল আইডি এবং ফোন নম্বর যুক্ত করতে হবে। এটি অত্যন্ত জরুরী স্টেপ। তাই একাউন্ট খোলার সময়ে এ বিষয়ে খেয়াল রাখুন। কিন্তু এটি কেন জরুরী? আপনার একাউন্টে যদি অন্য কেউ লগইন করতে চায়, এর ফলে আপনি এ বিষয়ে অবগত হবেন। তাকে ব্লক করতে পারবেন। এবং কখনো যদি আপনি আপনার পাসওয়ার্ডটি ভুলে যান, তবে সেই আইডি এবং নম্বর দিয়ে আপনার পাসওয়ার্ডটি রিকভার করতে পারবেন।

৩। টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখুন

টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সুবিধাটি চালু করলে আপনার জিমেইল একাউন্টটি আরও সুরক্ষিত হবে। কেউ যদি আপনার একাউন্টটি হ্যাক করার চেষ্টা করে, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন সুবিধাটি যদি চালু থাকে, তবে সে ব্যর্থ হবে।

৪। আপডেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করুন 

সবসময় আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার ও অ্যাপ ব্যবহার করুন। কেননা আপডেটেড  ভার্সনের সফটওয়্যার, অ্যাপ বা অপারেটিং সিস্টেমে লেটেস্ট সিকিউরিটি ফিচার যুক্ত থাকে, যা জিমেইল একাউন্টসহ আপনার ডিভাইসে থাকা সকল ধরনের অ্যাপকে সুরক্ষিত রাখবে।

৫। সন্দেহজনক কনটেন্ট বা লিংক এড়িয়ে চলুন

প্রতিদিন জিমেইলে আমরা কত ধরনের মেইল পেয়ে থাকি। এর মাঝে অনেক সময় কিছু স্প্যাম মেসেজ থাকে, যেমন কিছু লিংক পাঠিয়ে সেটাতে ক্লিক করার কথা বলা থাকে। তাই এসকল ব্যাপারে আমাদেরকে আরও দ্বিগুণ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

৬। রিসেন্ট ডিভাইস এক্টিভিটি খেয়াল রাখুন

সাধারণত আমরা জিমেইলে যে কাজই করি না কেন, তা রিসেন্ট এক্টিভিটিতে রেকর্ড হয়ে থাকে। আপনি কোন কোন ডিভাইস থেকে এক্টিভ আছেন, কি কি কাজ করছেন, সবই জানা যায়। তাই যদি আপনার রিসেন্ট এক্টিভিটির দিকে খেয়াল রাখুন। অন্য কোন ডিভাইস থেকে আপনি ছাড়া অন্য কেউ লগইন করেছে কিনা তা জানতে পারবেন। এছাড়াও অন্য কোন ডিভাইস থেকে লগইন করলে, আপনার জিমেইলে যদি টু- স্টেপ ভেরিফিকেশন ফিচারটি চালু থাকে, তবে আপনার কাছে সিকিউরিটি এলারট আসবে। তখন আপনি উচিৎ পদক্ষেপ নিয়ে পারবেন।

উপরোক্ত নিয়ম মেনে চলুন, আপনার জিমেইল একাউন্টকে সুরক্ষিত রাখুন।

Leave A Comment

You must be logged in to post a comment